'মনোরম' শব্দের সন্ধি বিচেছদ কোনটি?

Updated: 5 months ago
  • মনঃ+রম
  • মন+রম
  • মনো+রম
  • মনো+অম
350
উত্তরঃ
সঠিক উত্তর: A. মনঃ+রম
ব্যাখ্যা:
'মনোরম' শব্দটি বিসর্গ সন্ধির একটি উদাহরণ। বাংলা ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী, বিসর্গের পর যদি 'র' থাকে কিংবা বর্গের ৩য়, ৪র্থ ও ৫ম ধ্বনি থাকে, তবে অনেক ক্ষেত্রে পূর্বপদের বিসর্গটি 'ও-কার' হয়ে যায়।
  • বিশ্লেষণ: এখানে 'মনঃ' পদের শেষে থাকা বিসর্গ এবং পরবর্তী পদের শুরুতে থাকা 'র' মিলিত হয়ে 'ও-কার' (ো) তৈরি করেছে। ফলে মনঃ + রম = মনোরম।
  • নিয়ম: অ-কারের পর বিসর্গ এবং তার পরে 'র' থাকলে বিসর্গ স্থানে ও-কার হয়। এই একই নিয়মে গঠিত আরও কিছু শব্দ হলো— যশঃ + লাভ = যশোভিল অভীষ্ট (যশোলভ), মনঃ + হর = মনোহর ইত্যাদি।
অন্যান্য অপশনগুলো সঠিক নয় কারণ:
  • মন+রম: এটি সন্ধির ব্যাকরণগত নিয়ম অনুসরণ করে না, কারণ এখানে কোনো বিভক্তি বা সন্ধিজাত পরিবর্তন স্পষ্ট নয়।
  • মনো+রম: সন্ধির ক্ষেত্রে প্রথম পদের শেষে মূল ধ্বনি বা বিসর্গ থাকা প্রয়োজন। 'মনো' কোনো মৌলিক পদ নয়, এটি সন্ধিজাত ফল।
  • মনো+অম: এটি একটি অর্থহীন শব্দ গঠন তৈরি করে এবং সন্ধির নিয়মের পরিপন্থী।
Rasel SATT IT
Rasel SATT IT
1 week ago

 বিসর্গ সন্ধি-

সংস্কৃত সন্ধির নিয়মে পদের অন্তস্থিত র্ ও স্ অনেক ক্ষেত্রে অঘোষ উষ্মধ্বনি অর্থাৎ হ ধ্বনিরূপে উচ্চারিত হয় এবং তা বিসর্গ(ঃ) রূপে লেখা হয়। র্ ও স্ বিসর্গ ব্যঞ্জনধ্বনিমালার অন্তর্গত। সে কারণে বিসর্গ সন্ধি ব্যঞ্জন সন্ধির অন্তর্গত। বস্তুত বিসর্গ র্ এবং স্-এর সংক্ষিপ্ত রূপ। বিসর্গকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে : ১. র্ - জাত বিসর্গ ও ২. স্− জাত বিসর্গ ।

১. র্ -জাত বিসর্গ : র স্থানে যে বিসর্গ হয় তাকে বলে র - জাত বিসর্গ । যেমন : অন্তর- অন্তঃ, প্রাতর- প্রাতঃ, পুনর – পুনঃ ইত্যাদি। ২. স্-জাত বিসর্গ : স্ স্থানে যে বিসর্গ হয় তাকে বলে স্-জাত বিসর্গ। যেমন : নমস্ নমঃ, পুরস্ - পুরঃ, শিরস্ – শিরঃ ইত্যাদি।

বিসর্গের সাথে অর্থাৎ র্ ও স্-এর সাথে স্বরধ্বনির কিংবা ব্যঞ্জনধ্বনির যে সন্ধি হয় তাকে বিসর্গ সন্ধি বলে। বিসর্গ সন্ধি দুইভাবে সাধিত হয় : ১. বিসর্গ + স্বর এবং ২. বিসর্গ + ব্যঞ্জন।

১. বিসর্গ ও স্বরের সন্ধি

অ-ধ্বনির পরস্থিত (অঘোষ উষ্মধ্বনি) বিসর্গের পর অ ধ্বনি থাকলে অ + ঃ + অ – এ তিনে মিলে ও-কার হয়। যেমন— ততঃ + অধিক = ততোধিক ।

২. বিসর্গ ও ব্যঞ্জনের সন্ধি

১. অ-কারের পরস্থিত স্-জাত বিসর্গের পর ঘোষ অল্পপ্রাণ ও ঘোষ মহাপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি, নাসিক্যধ্বনি কিংবা অন্তস্থ য, অন্তস্থ ব, র, ল, হ থাকলে অ-কার ও স্-জাত বিসর্গ উভয় স্থলে ও-কার হয়। যেমন – তিরঃ + ধান = তিরোধান, মনঃ + রম মনোরম, মনঃ + হর মনোহর, তপঃ + বন তপোবন ইত্যাদি। = =

২. অ-কারের পরস্থিত র্-জাত বিসর্গের পর উপর্যুক্ত ধ্বনিসমূহের কোনোটি থাকলে বিসর্গ স্থানে ‘র’ হয়। যেমন— অন্তঃ + গত = অন্তর্গত, অন্তঃ + ধান অন্তর্ধান, পুনঃ+ আয় = পুনরায়, পুনঃ + উক্ত = পুনরুক্ত, = অহঃ + অহ = অহরহ।

এরূপ – পুনর্জন্ম, পুনর্বার, প্রাতরুত্থান, অন্তর্ভুক্ত, পুনরপি, অন্তবর্তী ইত্যাদি।

৩. অ ও আ ভিন্ন অন্য স্বরের পরে বিসর্গ থাকলে এবং তার সঙ্গে অ, আ, বর্গীয় ঘোষ অল্পপ্রাণ ও ঘোষ মহাপ্রাণ নাসিক্যধ্বনি কিংবা য, র, ল, ব, হ-এর সন্ধি হলে বিসর্গ স্থানে ‘র’ হয়। যেমন-

নিঃ + আকার = নিরাকার, আশীঃ + বাদ = আশীর্বাদ, দুঃ + যোগ = দুর্যোগ ইত্যাদি।

এরূপ - নিরাকরণ, জ্যোতির্ময়, প্রাদুর্ভাব, নির্জন, বহির্গত, দুর্লোভ, দুরন্ত ইত্যাদি। ব্যতিক্রম : ই কিংবা উ ধ্বনির পরের বিসর্গের সঙ্গে 'র' এর সন্ধি হলে বিসর্গের লোপ হয় ও বিসর্গের পূর্ববর্তী হ্রস্ব স্বর দীর্ঘ হয়। যেমন – নিঃ + রব = নীরব, নিঃ + রস = নীরস ইত্যাদি।

৪. বিসর্গের পর অঘোষ অল্পপ্রাণ কিংবা মহাপ্রাণ তালব্য ব্যঞ্জন থাকলে বিসর্গের স্থলে তালব্য শিশ ধ্বনি হয়, অঘোষ অল্পপ্রাণ কিংবা অঘোষ মহাপ্রাণ মূর্ধন্য ব্যঞ্জন থাকলে বিসর্গ স্থলে মূর্ধন্য শিশ ধ্বনি হয়, অঘোষ অল্পপ্রাণ কিংবা অঘোষ মহাপ্রাণ দন্ত্য ব্যঞ্জনের স্থলে দন্ত্য শিশ ধ্বনি হয়। যেমন-

ঃ + চ / ছ = শ + চ / ছ নিঃ + চয় = নিশ্চয়, শিরঃ + ছেদ = শিরশ্ছেদ।

ঃ + ট / ঠ = ষ + ট / ঠ ধনুঃ + টঙ্কার = ধনুষ্টঙ্কার, নিঃ + ঠুর = নিষ্ঠুর।

ঃ + ত / থ = স + ত / থ দুঃ + তর দুস্তর, দুঃ + থ = দুস্থ। =

৫. অঘোষ অল্পপ্রাণ ও অঘোষ মহাপ্রাণ কণ্ঠ্য কিংবা ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন (ক, খ, প, ফ) পরে থাকলে অ বা আ ধ্বনির পরস্থিত বিসর্গ স্থলে অঘোষ দন্ত্য শিশ ধ্বনি (স্) হয় এবং অ বা আ ব্যতীত অন্য স্বরধ্বনির পরস্থিত বিসর্গ স্থলে অঘোষ মূর্ধন্য শিশ্ ধ্বনি (ষ) হয়। যেমন-

অ এর পরে বিসর্গ ঃ + ক = স্ + ক নমঃ + কার = নমস্কার।

অ এর পরে বিসর্গ ঃ + খ = স্ + খ পদঃ + খলন পদস্থলন। =

ই এর পরে বিসর্গ ঃ + ক = ষ + ক নিঃ + কর = নিষ্কর।

উ এর পরে বিসর্গ ঃ + ক = ষ + ক দুঃ + কর = দুষ্কর ।

এরূপ পুরস্কার, মনস্কামনা, তিরস্কার, চতুষ্পদ, নিষ্ফল, নিষ্পাপ, দুষ্প্রাপ্য, বহিষ্কৃত, দুষ্কৃতি, - আবিষ্কার, চতুষ্কোণ, বাচস্পতি, ভাস্কর ইত্যাদি।

৬. কোনো কোনো ক্ষেত্রে সন্ধির বিসর্গ লোপ হয় না। যেমন— প্রাতঃ + কাল = প্রাতঃকাল, মনঃ + কষ্ট · মনঃকষ্ট, শিরঃ + পীড়া = শিরঃপীড়া। =

৭. যুক্ত ব্যঞ্জন ধ্বনি স্ত, স্থ কিংবা স্প পরে থাকলে পূর্ববর্তী বিসর্গ অবিকৃত থাকে অথবা লোপ পায়। যেমন— নিঃ + স্তব্ধ নিঃস্তব্ধ কিংবা নিস্তব্ধ। দুঃ+স্থ দুঃস্থ কিংবা দুস্থ। নিঃ + স্পন্দ নিঃস্পন্দ কিংবা = = নিস্পন্দ ।

কয়েকটি বিশেষ বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ

বাচঃ + পতি = বাচস্পতি, ভাঃ + কর = ভাস্কর, অহঃ + নিশা= অহর্নিশ, অহঃ + অহ = অহরহ ইত্যাদি।

Related Question

View All
Updated: 1 month ago
  • নি+কর
  • নিঃ+কার
  • নিঃ+কর
  • নি+কার
79
Updated: 2 months ago
  • দূর + অবস্থা
  • দুর + বস্থা
  • দুঃ + অবস্থা
  • দূর + অবস্থা
90
Updated: 3 months ago
  • নী + রব
  • নি + রব
  • নিঃ + রব
  • নীঃ + রব
144
Updated: 3 months ago
  • নির+আকরণ
  • নিঃ+করণ
  • নিঃ+আকরণ
  • নিরা+করণ
51
Updated: 3 months ago
  • নীরোগ
  • বাদান
  • সন্তাপ
  • একটিও নয়
89
  • দুহঃ + যোগ
  • দুঃ + যোগ
  • দুর + যোগ
  • দুরঃ + যোগ
48
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews

Question Analytics

মোট উত্তরদাতা

জন

সঠিক
ভুল
উত্তর নেই